20260421_172914
PlayPause
previous arrow
next arrow

স্বামী বিবেকানন্দ

নরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দের ১২ জানুয়ারি কলকাতার শিমুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হিন্দু সন্ন্যাসী দার্শনিক লেখক সঙ্গীতজ্ঞ। ঊনবিংশ শতাব্দীর ভারতীয় অতীন্দ্রিয়বাদী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের প্রধান শিষ্য। ছয় বছর ধরে দক্ষিণেশ্বর কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ঠাকুরের সঙ্গ লাভের পর নরেন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন ঠাকুর পরমহংসদেব শ্রীরামকৃষ্ণ যুগাবতার এবং তিনি তাঁকে শ্রীমুখে শুনিয়ে দিয়ে গেলেন ,” এখনও তোর বিশ্বাস হলো না? সত্যি, সত্যি বলছি,যে রাম যে কৃষ্ণ সে ইদানীং এই শরীরে রামকৃষ্ণ।

ঠাকুরের নরেন শিক্ষে দিবে কথাকে শিরোধার্য করে কলকাতার বরানগরের এক পোড়ো বাড়িতে নরেনের নেতৃত্বে সঙ্ঘবদ্ধ মঠজীবন শুরু হয়। ঠাকুরের নরেনের সন্ন্যাস নাম হয় স্বামী বিবেকানন্দ। ভারতীয় বেদান্ত সনাতন হিন্দু ধর্মের কথা পাশ্চাত্যের মানুষের কাছে প্রচার করার জন্য শ্রীমা সারদাদেবীর স্নেহাশীর্বাদ নিয়ে ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে আমেরিকা পাড়ি দেন। শিকাগোর বিশ্বধর্ম সম্মেলনে ১৮৯৩ খ্রীর ১১ সেপ্টেম্বর সনাতন হিন্দু ধর্মকে তিনি নবরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমেরিকার মাটিতে বেদান্ত সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ভারতে ফিরে এসে ধর্মভিত্তিক ত্যাগ সেবা অবলম্বনে ভারতবর্ষকে জাগিয়ে তোলার নব আন্দোলন শুরু করেন।প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মঠ রামকৃষ্ণ মিশন।উদ্দ্যেশ্য ভারত জাগরণ আন্দোলনের পুরোধা হবে একদল সন্ন্যাসী যাঁরা মনমুখ এক করে, স্বার্থচিন্তা বিসর্জন দিয়ে মূর্খনারায়ণ, দরিদ্রনারায়ণ, আর্তনারায়ণের সেবায় আত্মনো মোক্ষার্থং জগদ্ধিতায়জীবন উৎসর্গ করবেন।

ভারতীয় বেদান্তকে অভিনব রূপে প্রাসঙ্গিক ভাবে আলোচনার জন্য রচনা করেন ভক্তিযোগ‘,’কর্মযোগ‘, ‘জ্ঞানযোগ‘,’রাজযোগ‘, ‘প্রাচ্য পাশ্চাত্য‘,’ বর্তমান ভারত‘,’ পরিব্রাজক‘,’ বক্তৃতা প্রবন্ধ‘, ‘ভাববার কথা‘, ‘মদীয় আচার্যদেব‘,’ বীরবাণীনামের কবিতা সংকলন। ১৯০২ খ্রীর জুলাই স্বামীজি অমৃতলোকে যাত্রা করেন।